আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সতর্কবার্তা

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির ভাষ্যমতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে এখনো শিক্ষা নেয়নি বিশ্ব। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিকল্প উৎস খোঁজায় খুব বেশি মনোযোগ দেয়নি কোনো দেশ। উল্টো চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য উত্তেজনা গোটা বিশ্বকে আরো অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরিস্থিতিকে আরো সঙ্গিন করে তুলছে বিভিন্ন দেশের সংঘাত ও চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া। খবর এফটি।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক সম্মেলন নিয়ে ঘোষণা দিতে গিয়ে আইইএর পক্ষে সংস্থাটির প্রধান ফাতিহ বিরল গতকাল এ সতর্কবার্তা দেন। চলতি সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া এ সম্মেলনে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে লন্ডনে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করছেন। এতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি ও ভারতের মন্ত্রীরা অংশ নেবেন। সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন বিশ্বের বড় বড় জ্বালানি কোম্পানির প্রধানরা। বিশ্বব্যাপী অস্থির বাজারে কীভাবে স্থিতিশীল ও নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়েই আলোচনা করবেন তারা।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিনটি মূলনীতির কথা উল্লেখ করেন ফাতিহ বিরল। এগুলো হলো জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। তবে বাস্তবতা হলো ইউরোপ এখনো আমদানীকৃত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ইউরোপ ও আমেরিকায় জ্বালানি ভর্তুকি ও নীতিমালায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা বাণিজ্যযুদ্ধ বিশ্বজুড়ে সহযোগিতার বদলে আরো বেশি বিভাজন তৈরি করছে।

ফাতিহ বিরলের মতে, বাণিজ্যযুদ্ধ বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা জ্বালানি তেল ও গ্যাসের চাহিদার ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলবে।

এদিকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের ওপর ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, চরম আবহাওয়া, সমুদ্রতলের কেবল ব্যবস্থার ওপর হামলা, সাইবার আক্রমণসহ আরো নতুন নতুন হুমকির মুখে পড়ছে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা।

সংকট সমাধানের বিষয়ে আইইএর প্রধান ফাতিহ বিরল বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগত ও উদীয়মান উভয় ধরনের ঝুঁকিই এখন আন্তর্জাতিক আলোচনায় থাকা জরুরি।’

সম্মেলনে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোর উদ্দেশে জীবাশ্ম জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভারসাম্য নিয়ে কথা বলেন আইইএ প্রধান। তার মতে, জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এখন ঐতিহ্যগত ঝুঁকি ও উদীয়মান ঝুঁকি দুটিই বিদ্যমান। তিনি উল্লেখ করেন, সামিটে উপস্থিতির মধ্যে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিগুলো যেমন শেল, বিপি, এক্সনমোবিল, টোটালএনার্জিস, এনি ও ইকুইনর রয়েছে। যারা সম্প্রতি জ্বালানি নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে উপস্থিত রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানি যেমন ওরস্টেড, ভেস্টাস এবং ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠান ইডিএফ, এনেল, অক্টোপাস ও ইবেরড্রোলা।

সম্মেলনে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ফাতিহ বিরল বলেন, ‘আমরা ঐতিহ্যগত জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি যেমন তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন নিয়ে আলোচনা করব। আবার সরবরাহ শৃঙ্খল বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ঘাটতির মতো নতুন ঝুঁকিও গুরুত্ব সহকারে দেখব।’

আরও